শুক্রবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট যেভাবে কাজ করবে করোনাভাইরাস: কোভিড-১৯ শনাক্তে

আপডেটঃ ২:১৬ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৬, ২০২০

অনলাইন ডেস্কঃ

করোনাভাইরাস দ্রুত পরীক্ষা করতে র‍্যাপিড কিটের উদ্বোধন করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই কিট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরকারি কোন দপ্তরের কোন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) একটি প্রতিনিধি দলের কাছে কিট তুলে দেয়া হয়।যাচাই করে দেখার জন্য এসব কিট বাংলাদেশ সরকারের ওষুধ পরিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করার কথাছিল।গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন যে তাদের ১০ হাজার কিট প্রস্তুত আছে যার মধ্যে পরীক্ষার জন্য কয়েকশো নিতে পারে সরকার।আশা করা হচ্ছে যে, এই কিট দেয়ার পর কিছুদিনের মধ্যে সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।অনুমোদন পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে এক লাখ কিট দেয়া হবে বলে জানানো হয়।১৫ মিনিটের মধ্যেই এই কিট দিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব বলে জানান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ‘জিআর র‌্যাপিড ডট বট ইমিউনোঅ্যাসি’ কিট তৈরির জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ড. বিজন কুমার শীল।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছেন, “লকডাউন তুলে দেয়ার পর দেশ বিদেশ থেকে অনেক মানুষ আসতে শুরু করবে।তাদের দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে।সেজন্য এই টেস্ট কিটগুলো উপকারে আসবে।” বিশেষ করে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোয় বেশি কাজে আসবে।

যেভাবে কাজ করবে এই কিট-

ব্লাড গ্রুপ যে পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা হয়, র‍্যাপিড ডট ব্লট নামের এই কিট অনেকটা একই রকম পদ্ধতিতে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেডের গবেষকরা কিটটি তৈরি করেছেন।গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য র‍্যাপিড টেস্ট কিটগুলোয় সাধারণত শুধু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে – যেটা ভারতে হয়েছে। ফলে সেখানে অনেক সময় ভুলভ্রান্তি হতে পারে।”আমাদের এই কিটে অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন, দুইটাই পরীক্ষা করা হবে।”তিনি জানান, সিরিঞ্জের মাধ্যমে তিন সিসি রক্ত নেয়ার পর সেটা সিরাম আর সেল আলাদা করে ফেলা হবে।পরে সেটা থেকে অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করে দেখা হবে।সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ১৫ মিনিট সময় লাগবে বলে তিনি জানান।এর মধ্যেই বোঝা যাবে যে, রক্তদাতা করোনাভাইরাসের পজিটিভ নাকি নেগেটিভ।এই কিটগুলো ব্যবহার করে তারা ৯৩ শতাংশের বেশি সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান।সংক্রমিত বাংলাদেশিদের রক্তের উপর গবেষণার পরই এসব কিট তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।এর আগে সরকার ৫টি রক্তের নমুনা পাঠানোর পর সেগুলোর উপর গবেষণা চালানো হয়।

তবে পরীক্ষার আগে এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চান না সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন, গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত র‍্যাপিড টেস্ট কিটের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ভুল ফলাফল – যেটিকে ফলস নেগেটিভ বলা হয় – আসতে পারে।

তবে এই প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছেন, ”আমাদের উদ্ভাবিত টেস্ট কিটগুলো পরীক্ষায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সাফল্য পাওয়া গেছে। পিসিআর টেস্টের ক্ষেত্রেও তো কিছু ভুল পাওয়া যায়।” সূত্রঃবিবিসি

IPCS News/রির্পোট।