মঙ্গলবার ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

নাগরিকত্ব সনদ নেই মোদির, জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক মোদি

আপডেটঃ ১:৪২ অপরাহ্ণ | মার্চ ০২, ২০২০

অনলাইন ডেস্কঃ

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনো নাগরিকত্ব সনদ নেই।জন্মসূত্রে তিনি ভারতীয়।সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালুর পর তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) মাধ্যমে মোদির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেছেন এক ভারতীয় নাগরিক।এর পরিপ্রেক্ষিতেই এ তথ্য জানিয়েছ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সিয়াসাত ডেইলি ও আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সিএএ চালুর পর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি শুভঙ্কর সরকার নামে এক ব্যক্তি আরটিআই-এর মাধ্যমে জানতে চান প্রধানমন্ত্রীর নাগরিকত্বের কাগজপত্র আছে কি না।এর জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সচিব প্রবীণ কুমার জানান, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী জন্মসূত্রেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় নাগরিক।তাই নথিভুক্তকরণের মাধ্যমে ভারতীয় হলে যে সার্টিফিকেট মেলে, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে থাকার প্রশ্নই উঠছে না।

তবে এমন জবাবে অস্পষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ওয়াকিবহাল মহল।এছাড়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই এই তথ্য চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে দেশটিতে রাজনৈতিক মহলে।সমালোচকদের ভাষ্য, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট নেই।তিনি জন্মসূত্রে ভারতীয় বলে দাবি করা হচ্ছে।অথচ অন্যদের কাছে ভারতীয় হওয়ার প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে।এ কেমন ধরণের আইন?

ছবিঃতথ্য অধিকার আইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র চেয়ে করা আবেদন ও প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের উত্তর।

প্রবীণ সাংবাদিক সিমি পাশা সংশ্লিষ্ট আরটিআই ও তার উত্তরের একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন।সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাগরিকত্ব নিবন্ধনের প্রয়োজন না থাকে, তবে অন্যদের কেন থাকবে? প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এ জবাবকে ‘অস্পষ্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট।

যেখানে, শুরু থেকেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে ২০১১ ও ২০১৫ সালের জাতীয় জনগণনা পঞ্জি প্রক্রিয়ার পর দেওয়া পরিচয়পত্র যাঁদের কাছে নেই, তাঁরা নাগরিক নন। দেশের মানুষের বড় অংশের কাছেই সেই পরিচয়পত্র নেই।কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো যুক্তিই আমলে নেয়নি দেশটির বর্তমান বিজেপি সরকার।

সিএএ নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং দিল্লির অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে নরেন্দ্র মোদির নাগরিকত্ব নিয়ে।
নাগরিকত্ব সনদের ক্ষেত্রে কোনো কথা শুনতে চায়নি প্রশাসন।এখন মোদির মতো করে কেউ যদি দাবি করেন তিনিও জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক, তাহলে তা গ্রাহ্য করা হবে কি না—সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।দশকের পর দশক ভারতের অধিবাসী হলেও শুধু নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি বলে আসামের অনেকেরই ঠাঁই হয়েছে বন্দিশিবিরে।