মঙ্গলবার ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

খালেদাজিয়া ষড়যন্ত্রের স্বীকার বলে জামিন পাচ্ছেন না : ফখরুল

আপডেটঃ ১:০৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ০১, ২০২০

অনলাইন ডেস্কঃ

খালেদাজিয়া ষড়যন্ত্রের স্বীকার বলে জামিন পাচ্ছেন না বললেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, তিনি এত অসুস্থ যে, তার অসুস্থতার পরেও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না।এটা অত্যন্ত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেয়া হচ্ছে না।আমরা চেষ্টা করছি জনগণকে সংগঠিত করে দেশনেত্রীকে মুক্ত করার।গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। এই আদেশের প্রতিবাদে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার দুপুর ২টায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করলেও পুলিশের কাছ থেকে তার অনুমতি মেলেনি।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশি অবস্থান দেখে পুলিশকে গেট থেকে একটু দূরত্বে থাকার জন্য অনুরোধ জানান।তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, সরকার তার জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় তারা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না।এর ধারাবাহিতকতায় র‌্যালি করতে অনুমতি দেয় না।এটা এখন একটি গতানুগতিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।জনগণকে দমিয়ে রেখে, মানুষের আকাঙ্খাকে দমিয়ে রেখে এরা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির জন্য প্যারোল (শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি) অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় সাজা স্থগিত রাখার আবেদন ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন চতুর্থবারের মতো খারিজ হওয়ার পর এমনটাই মনে করছেন বিএনপির নেতারা; যদিও ওই দুই উপায়ে আবেদন করলেই যে ফল পাওয়া যাবে সে বিষয়েও তাঁরা নিশ্চিত নন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আপিল আবেদন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আছে।তবে দল এবং আইনজীবী নেতাদের আলোচনায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, সরকারের অনুকম্পা চাইলে আগেই চাওয়া উচিত।কারণ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হলে জামিনেরও সম্ভাবনা নেই।অন্যদিকে আন্দোলনও বিএনপি করতে পারবে না।‘প্যারোল বা অন্য কোনো উপায়ে মুক্তির আবেদন করলে করুক।পানি ঘোলা করে লাভ কী! এখানে তো সরকার যা চাইবে তা-ই হবে।’বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিনজন সদস্য এবং দুজন সহসভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলের সবাই জানে যে জামিনের আবেদন করে কোনো লাভ হবে না।তার পরও বারবার জামিনের জন্য চেষ্টা করার অর্থ সময় নষ্ট করা।ওই নেতারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সবই লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আসে।অথচ সিদ্ধান্ত ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা অনুযায়ী সাজা স্থগিতের আবেদন করার।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে যে ফোনালাপ হয় সেখানেও প্যারোলের আবেদনের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।তিনি বলেন, আদালত ছাড়া আরেকটি রাস্তা আছে, সেটি হলো প্যারোল, যে আবেদন করলে সরকার তা বিবেচনা করবে।অবশ্য প্যারোল বা অন্য কোনো আবেদন করলে খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন এমনটি নিশ্চিত হতে চাচ্ছে বিএনপি।

IPCS News /রির্পোট।