মঙ্গলবার ২রা জুন, ২০২০ ইং ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

সুন্দরের আরেক নাম কালাগুল চা বাগান

আপডেটঃ ১২:৫৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২৮, ২০২০

তখন সময় ছয়টা হয়নি। আমি তো আছি দিবা নিদ্রায় শায়িত এর মাঝেই আমাদের পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য সপ্তক ঘুম থেকে উঠেই ঘুরতে যাওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করল। নিরুপায় হয়ে ঘুম থেকে উঠতেই হল।প্রথমেই ফোন দিলাম পাইলট মহোদয়কে সময় মতো চলে আসতে। বের হতে দেরি হলে উপায় নেই। যাই হোক সময় মতোই বের হলাম আমরা গন্তব্য পথে। ও, বলা হল না, আমরা চলছি আজ স্নিগ্ধ চা বাগান কালাগুল চা বাগানের দিকে। কালাগুল চা বাগান বাংলাদেশের সিলেট জেলায় অবস্থিত একটি চা বাগান। সিলেট শহরের উত্তর প্রান্ত ঘিরে ১৫ কিলোমিটার দূরে মনোলোভা একটি চা বাগান কালাগুল চা বাগান।কালাগুল চা বাগানে যাওয়ার আরেকটি কারণও আছে তা হল, কথিত আছে যে সনাতন ধর্মের এক দেবীর পীঠস্থান এ কালাগুল চা বাগানে। যার নাম মহালক্ষ্মী গ্রীবা পীঠ, তাই ঘুরতে যাওয়া ওই দিকে। ঘুরাও হল সঙ্গে একটি ধর্মীয় স্থান দর্শনও হলে ।এদিকে সূর্যদেবের প্রভা মহাসড়কের পথকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। চৌহাট্টা, আম্বরখানা, মালিনিছরা চা বাগান পেরিয়ে চলছি এগিয়ে। নতুন মসৃণ পথে বেশ ভালোই চলছিলাম আমরা। কিন্তু ধোপাগুল পেরিয়ে সাহেববাজার অভিমুখে পা ফেলতেই কিছুটা পথ বিরক্তির কারণ হল বৈকি। যাই হোক এর পরের রাস্তা বেশ ভালো ছিল।গ্রামীণ পিচঢালা পথে চলছি এগিয়ে। পথে দেখা পেলাম ধানক্ষেতে হংস বলাকার অবাধ বিচরণ। কোথাও আবার বক পাখির বাধাহীন ওড়াউড়ি। বেশ ভালোই লাগছিল শরতের প্রকৃতি। সাহেববাজারে এসে এবার ডানদিকে মোড় নিতে হবে আমাদের। কিন্তু মোড় নিয়েই বিপত্তিতে পড়লাম আমরা। সামনে পাড়ি দিতে হবে খাড়া ব্রিজ। নিরুপায় হয়ে গাড়ি থেকে নামতেই হল। পদব্রজে এগিয়ে চললাম চা বাগান পানে। চা গাছে নতুন কুড়ি এসেছে তাই গাছগুলো নব যৌবন পেয়েছে। রৌদ্র-ছায়ায় চমৎকার লাগছিল। চা বাগানের মাঝ দিয়ে মাটির রাস্তা ধরে আমরা এগিয়ে চলছি। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি ছড়া। চারপাশে সবুজের সমারোহ। নীল আকাশের নিচে যেন সবুজ গালিচা পেতে আছে সজীব প্রকৃতি। উঁচু-নিচু টিলা এবং টিলাঘেরা সমতলে সবুজের চাষাবাদ।শুধু সবুজ আর সবুজ। কোনো যান্ত্রিক দূষণ নেই। প্রকৃতির সব সৌন্দর্যের সম্মিলন যেন এখানে। এমন অন্তহীন সৌন্দর্যে একাকার হয়ে আছে এ চা বাগান। বাগানে প্রবেশের পরপরই মেঠো পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে শোনা যাচ্ছিল কিচিরমিচির, যেন আমাদের স্বাগত জানাতে উল্লাসে মেতেছে নানা জাতের বুনো পাখি। আমরা চা বাগানের পথে হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছলাম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীও স্থানে। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। আমাদের মতো বেশ ভক্তের আনাগোনা চোখে পড়ল। পুরো মন্দির আমরা ঘুরে দেখতে লাগলাম।প্রথমেই দেখা পেলাম মূল মন্দিরের।সেখানে পূজারি ব্রাহ্মণ পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলাম ভৈরবের থলির (যেখানে শিবের পূজা হয়)। দেখলাম অনেকেই মনবাসনা পূরণের নিমিত্তে সুতা বাঁধছেন। কিছু দূরে দেখা পেলাম পদ্ম পুকুরের। পুকুর ভরে পদ্ম ফুল ফুটে রয়েছে। আমাদের খুদে বন্ধু এসব দেখে খুব আনন্দিত।পুকুর পাড়ে দেখা পেলাম লজ্জাবতি গাছের। আমাদের শহুরে জীবনে লজ্জাবতি গাছের দেখা পাওয়া নিতান্ত ভাগ্যের ব্যাপার। সপ্তক তো ঘুরে ঘুরে প্রতিটি গাছে স্পর্শ করছে আর গাছের নুয়ে পড়া দেখে খুব আনন্দিত হচ্ছে।চার পাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ যে কারোরই ভালো লাগবেে । এখানে অনেক দরিদ্র পরিবারের বাস, বেশিরভাগই অনাহারে দিন কাটাতে হয়। তাই আগের থেকেই পরিকল্পনা ছিল এ অনাহারি মানুষের মুখে যদি একটি বেলা আহার তুলে দেয়া যায় তাহলে মন্দ হয় না।সে ভাবেই আগের থেকে বলা ছিল। দুপুর হতেই ছোট ছোট বাচ্চারা হাজির হতে থাকল। সবাই সারিবদ্ধভাবে বসেও গেল। তাদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হল। সবাই খুশি মনে অন্ন গ্রহণ করল।শহুরে জীবনধারার মতো চাকচিক্যময় নয় তাদের জীবন। নিতান্ত সাধারণভাবে তাদের চলাফেরা। দিনব্যাপী বাচ্চাদের সঙ্গে কাটিয়ে বিকাল বেলার দিকে আমরা ফিরে চললাম শহর পানে।

কীভাবে যাবেন ,

ঢাকার মহাখালী , ফকিরাপুল, রাজারবাগ ও সায়েদাবাদ, বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রিন লাইন, শ্যামলী, এনা, হানিফ বা বিআরটিসি বাসে অথবা ট্রেনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকালে আন্তঃনগর পারাবাত, দুপুরে জয়ন্তিকা ও কালনী এবং রাতে উপবন সিলেটের পথে ছোটে। ভাড়া ৩২০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। সিলেট শহরের বন্দরবাজার থেকে সিএনজি নিয়ে চলে যান কালাগুল চা বাগানে। রিজার্ভ যাওয়া আসা পড়বে ৬০০ টাকা।

IPCS News /শেখ পাপিয়া