শুক্রবার ২৯শে মে, ২০২০ ইং ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বয়কট নয় মাস্টওয়াচ ‘ছপক’ ‘লক্ষ্মী’র লড়াইয়ে বাজিমাত দীপিকার !

আপডেটঃ ১:৪৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৬, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক :

‘ছপক’ এমন এক ছবি যা সোজা মস্তিষ্ক ও সমানতালে মনের ভিতরে থাকা ইমোশনকে ধাক্কা মারবে ৷ ছবি দেখে আপনার চিৎকার করতে ইচ্ছে করবে, কাঁদতে ইচ্ছে করবে, আর দীপিকার প্রতি ভালোবাসা আরও তিনগুণ বেড়ে যাবে ! তা হলপ করে বলা যায়৷

‘ছপক’ ছবির তুরুপের তাস একটাই, আর তা হল দীপিকা পাড়ুকোন ! বাস্তবের অ্যাসিড আক্রান্ত লক্ষ্মী, ছবিতে মালতি, তা দীপিকার থেকে একেবারেই আলাদা নয়৷একশো শতাংশই মিলে মিশে গিয়েছেন তিনি৷আর এই মিশে যাওয়াটা এতটাই সহজ-সরল, যে আপনি এক সময় ভুলেই যাবেন এই সেই ‘বাজিরাও মস্তানি’, এই সেই ‘পদ্মাবত’৷

সত্যি সাহস লাগে ! ছবি মুক্তির ঠিক আগে দেশের জ্বলন্ত ‘ইস্যু’তে JNU ক্যাম্পাসে পা রাখতে সাহস লাগে ! পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে, হুমকি ট্রোলের তোয়াক্কা না করে, মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহস লাগে ! ছবির প্রযোজক হয়ে তা যেন এক বিশাল বাজি রাখা৷কিন্তু দীপিকার কাছে এ সাহস, এ বাজি যেন তুচ্ছ৷ কেননা, মেঘনা গুলজারের চিত্রনাট্যকে সবুজ সংকেত দিয়ে তিনি যখন ‘ছপক’-এর মালতি হয়ে উঠছিলেন, তখনই আসল চ্যালেঞ্জটা নিয়ে ফেলেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন ! ২ ঘণ্টা ৩ মিনিটের এই ছবির প্রত্যেকটি ফ্রেমে সেই চ্যালেঞ্জই যেন বার বার ধরা পড়ছিল৷

বলিউডে নায়কতন্ত্র ! খান-কাপুর-সিংদের জোর৷একথা এখন বড্ড ঘ্যানঘ্যানে, বড্ড ক্লিশে ৷ এই ধরণের ইউটোপিয়াকে বহুদিন আগেই নসাৎ করেছেন বিদ্যা, অনুষ্কা, আলিয়া, দীপিকারা ! তবে এবার দীপিকা সেই নায়কতন্ত্রের স্বপ্নের বুদবুদকে ধূলিসাৎ করলেন ৷ ‘সুন্দরী’ নায়িকার তকমাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘প্রসথেটিক মেকআপ’-এ গোটা ছবিতে ‘অভিনয়’ কেই মূল হাতিয়ার বানিয়ে ফেললেন তিনি ৷ হ্যাঁ, এতেও সাহস লাগে৷এটাও এক বড় বাজি রাখা৷আর এই বাজির ওপর নামই হল ‘ছপক’ !

১৯ বছরের মালতি৷ দুম করে পড়াশুনো ছেড়ে দেয়৷ মালতি ইন্ডিয়ান আইডল হতে চায় ৷ তাঁর একটা বয়ফ্রেন্ড রাজেশও আছে৷সবে প্রেম শুরু ৷হাতে সবে লাল গোলাপ দেওয়া-নেওয়া ৷তবে ফ্যামিলি ফ্রেন্ড বসিরের নজরও মালতির ওপর৷বসিরের বিয়ের প্রোপোজাল প্রত্যাখান করতেই,মালতির মুখের ওপর ছিটকে এসে পড়ে অ্যাসিড ! ব্যস, লড়াই শুরু হয় মালতির ৷হাসপাতাল, ৭ বার অপারেশন, আদালত, সমাজ ! লড়তে লড়তে ক্লান্ত মালতি৷ একটা চাকরি চাই তার ৷সংসার চালাতে হবে ৷ রুগ্ন ভাইকে সুস্থ করতে হবে ৷ আন্দোলন, প্রতিবাদ তার কাছে ফিকে হতে থাকে রোজকার জীবনের কাছে ৷সব ভুলে যেতে চায় মালতি৷ আদালত ভুলতে যায় ৷ মিডিয়া ভুলতে চায় ৷ আর তাই হয়তো আইনজীবীর ফোনও নিয়মিত ধরতে নারাজ ! আর তাই হয়তো সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মালতি চাকরিই চেয়ে বসে ! আর পাঁচটা মেয়ের মতোই পায়ে দাঁড়াতে চায় মালতি ৷ তফাৎ এখানে যে তাঁর জীবনে এখন ছপক শব্দ ! মুখশ্রী ‘বিকৃত’ !

মেঘনা গুলজার ও অঙ্কিতা চৌহানের সহজ-সরল, সোজা-সাপটা চিত্রনাট্য ‘ছপক’-এর মূল মেরুদণ্ড ! এই চিত্রনাট্য শুধুই মালতির গল্প বলে যায়, কোনওরকম আলগা ‘জ্ঞান’ না দিয়ে ৷ গল্প বলে যায় মালতির প্রত্যেকদিনের স্ট্রাগলের ৷যা চলতে থাকে ওড়নায় মুখ ঢাকা থেকে মামলা জেতার ওপর ওড়না সরিয়ে ‘জেতার’ মধ্যে দিয়ে৷বাদ বাকিটা মেঘনা ছেড়ে দেন দর্শকের ওপর৷ আর তাই তো পর্দায় মালতি ও মালতির মতো আরও অ্যাসিড আক্রান্তের গল্প দেখতে দেখতে প্রশ্ন রেখে যায় কেন কেউ এমনটি করে?

বাস্তবের সঙ্গে তাল রেখে এ সবের বাইরে ‘ছপক’-এর গল্পে একটা নিশব্দ প্রেমও রয়েছে ৷ এনজিও কর্মকর্তা সাংবাদিক অমল ও মালতির ৷ যাকে খুব সুন্দর ও নরমভাবে সামনে নিয়ে এসেছেন মেঘনা ৷ যা শেষ দৃশ্যের অমল ও মালতির হালকা চুম্বনের মতোই৷অভিনয় নিয়ে বলতে গেলে প্রত্যেকটি অভিনেতাকে সঠিক নির্বাচন করেছেন মেঘনা ৷ তা অমলের চরিত্রে বুদ্ধিদীপ্ত বিক্রান্ত মাসে হোক বা আইনজীবি অর্চনার চরিত্রে মধুরজীত সারগি ৷ সবাই যেন দীপিকাকে সাপোর্ট করে গিয়েছেন মালতি  হতে ৷তা অমলের চরিত্রে বুদ্ধিদীপ্ত বিক্রান্ত মাসে হোক বা আইনজীবি অর্চনার চরিত্রে মধুরজীত সারগি ৷ সবাই যেন দীপিকাকে সাপোর্ট করে গিয়েছেন মালতি  হতে ৷

‘ছপক’ ছবির সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট হল, এই ছবি আলাদা করে বা জোর করে কোনও রকম মেসেজ দিতে চায় না ৷বাস্তবের লক্ষ্মী আগরওয়ালের গল্পকে মালতির সঙ্গে মিলিয়ে দর্শকের সামনে শুধুমাত্র তুলে ধরে কিছু উদাহরণ ৷ বাদ বাকি প্রতিবাদটা একেবারে শেষ ফ্রেমে ! যা মালতির লড়াই, আইনের পরিবর্তনে, ফের যেন এক বোতল অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে ৷ আর দর্শকের মনে ‘ছপক’ আওয়াজ ! এক রাশ প্রশ্ন কিছু কি বদলাবে?

IPCS News /রুবেল