বুধবার ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

শীঘ্রই রাজশাহীকে ধূমপানমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে

আপডেটঃ ৩:৩০ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ৩০, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক

বিশ্বের মডেল সিটিগুলোর অন্যতম একটি গ্রীন, ক্লিন, এডুকেশন ও হেলদি সিটি হচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।উন্নত বিশ্বের অত্যাধুনিক সিটিগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম মডেল সিটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় শ্রীঘ্রই রাজশাহীকে ধূমপানমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর ২০১৯) সকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সরিৎ দত্তগুপ্ত নগর সভাকক্ষে ‘তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার, প্রণোদনা ও পৃষ্ঠপোষকতা’ শীর্ষক জরিপের প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ২৭৩৬টি তামাকপণ্যের ৯০% দোকানে তামাকের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আইন বহির্ভুত অবৈধ বিজ্ঞাপন, প্রণোদনা ও পণ্য প্রদর্শিত হওয়ার বিষয়টি জরিপ প্রতিবেদনে উঠে আসে।দাতা সংস্থা ‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স-সিটিএফকে’ এর সহযোগিতায় রাজশাহীর উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’ রাজশাহী মহানগরীতে এ জরিপ পরিচালনা করে।‘এসিডি’র আয়োজনে ও ‘সিটিএফকে’র সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জরিপের ফল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের নিকট আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হয়।চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মহানগরীর ২৭৩৬টি তামাকপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্রের (point of sales) মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৪২৪ টিতে পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন উঠে আসে।রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সচিব আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ মো.রজবআলী।‘এসিডি’র মিডিয়া ম্যানেজার আমজাদ হোসেন শিমুলে উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান ও ‘সিটিএফকে’র গ্র্যান্ট্স ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়া।

এসময় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল, রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. নাসির উদ্দিন, ‘এসিডি’র ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স) পংকজ কর্মকার, সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. শাহীনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।সভায় ‘তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার, প্রণোদনা’ শীর্ষক জরিপের প্রতিবেদন পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন ‘এসিডি’র এডভোকেসি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম শামীম।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্যানেল মেয়র-২ মো. রজব আলী বলেন, ‘নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে বিশ্বের দরবারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পরিচিতি লাভ করেছে।আপনা নগরবাসী সবাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চাই।এজন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাননীয় নগরপিতা রাজশাহীকে ধূমপানমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন।’ সভাপতির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশন সচিব আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ বলেন, ‘মুক্ত আলোচনায় রাজশাহীকে তামাকমুক্ত ঘোষণা করতে প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে তারা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন।আমরা সকলের মতামতের ওপর ভিত্তি করে তামাকমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়ার লক্ষ্যে একটি সুপারিশপত্র রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে জমা দেব।রাজশাহী কর্পোরেশনের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’মুক্ত আলোচনা বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত রাজশাহী নগরী ব্যতিরিকে এই সিটিকে হেলদি সিটি বলা যায় না।তাই যত দ্রুত সম্ভব রাজশাহী সিটিকে তামাকমুক্ত ঘোষণা করে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে আমরা দেশের অন্য কোনো সিটির উদাহরণ এখানে উপস্থাপন করতে চাই না।আমরা সবার আগে রাজশাহী সিটিকে ধূমপানমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলে বিশ্ব দরবারে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।জরিপ প্রতিবেদনে দেখানো হয়, সামগ্রিকভাবে মহানগরীতে তামাকের বিক্রয়কেন্দ্রে আইন লঙ্ঘনের চিত্র দেখা গেছে- আইন বহির্ভুত তামাকের অবৈধ বিজ্ঞাপন/প্রণোদনা এবং প্রদর্শণ ৫৭%; শুধু পণ্য প্রদর্শণ ৭০% দোকানে; বিজ্ঞাপন/প্রণোদনা ৭৭% দোকানে এবং ৯০% দোকানে বিজ্ঞাপন, প্রণোদনা, পণ্য প্রদর্শণ করতে দেখা গেছে।উল্লেখ্য, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ধারা ৫ মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া, বই, লিফলেট, পোস্টার, ছাপানো কাগজে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবেন না।এই ধারার উপধারা (ছ) তে বলা হয়েছে- তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে (point of sales) যে কোন উপায়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করিবেন না বা করাইবেন না।কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধারা লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদন্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দন্ডের দ্বিগুণ হারে দন্ডনীয় হইবেন।

IPCS News /রির্পোট,নিজস্ব প্রতিবেদক।