শনিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

দিনাজপুর শহরের কুয়েতি মসজিদের চার পাশ চূড়ই পাখির অভয়ারণ্য

আপডেটঃ ৭:২৩ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০১, ২০২২

নিউজ ডেস্কঃ

দিনাজপুর:- দিনাজপুর শহরের কয়েতি মসজিদের চার পাশ চূড়ই পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখোরিত হয়ে উঠে।প্রতিদিন সূর্যাস্তের আধ ঘন্টা আগে বিভিন্ন প্রান্থ থেকে এসব চূড়ই পাখি কুয়েতি মসজিদের আশপাশের গাছের ডাল-পালায় এসে জড়ো হয়।সূর্যাস্তের সাথে সাথে হাজার হাজার পাখি এসে মসজিদের চার পাশের গাছের ডাল-পালা ভরে যায়।এসব চূড়ই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে।আবার ভোরে পাখিরা জেগে উঠে এবং সূর্যাস্তের আগেই খাবারের সন্ধানে বের হয়ে যায়।সরেজমিন উপশহর কুয়েতি মসজিদের সামনে এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে।গত দেড় মাস আগে এসব চূড়ই পাখি কুয়েতী মসজিদের পাশের গাছপালায় এসে আশ্রয় নেয়।আর এসব পাখি দেখতে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে শিশু-কিশোরসহ নানান বয়সের উৎসুক দর্শক এসে ভিড় জমায়।

তবে পাখিদের কলকাকলি ও কিচিরমিচির শব্দে মসজিদের চার পাশ মুখরিত হয়ে উঠলেও মাগরিবের আজান হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এসব পাখির কিচিরমিচির শব্দ বন্ধ হয়ে যায়।পাখিরা নিরব হয়ে গাছের ডালে ঘুমিয়ে যায়।কুয়েতী জামে মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতন জানান, গত এক প্রায় দেড় মাস থেকে পাখিগুলো এই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।

পাখিদের আগমনে মসজিদের মুসল্লিসহ এলাকাবাসি খুবই খুশি।তিনি জানান, আসরের পর থেকেই  পাখিদের কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে এলাকাটি।ঝাঁকে ঝাঁকে হাজার হাজার পাখি উড়ে এসে মসজিদের ছাদে ও বিদ্যুতের তারে বসে।যে দৃশ্যটা দেখতে খুব সুন্দর।পাখির কিচির মিচির শব্দ শুনতে অনেকেই ছোট সোনামনিদের সাথে নিয়ে মসজিদের সামনে চলে আসেন।

আবার মাগরিবের আযান হলে মসজিদের আশে পাশে আমগাছ, কাঠাঁল গাছ, লিচু গাছসহ যেসব গাছ রয়েছে, সেসব গাছে বসে নিশ্চুপ হয়ে যায়।মুলত মাগরিবের নামাজের সময় হলে তারা আর শব্দ করে না।যা প্রথমে দেখে আমরা মসজিদের মুসুল্লিগণ অবাক হয়েছিলাম।আবার ফজরের নামাযের পর সব দল বেঁধে আহারের সন্ধানে উড়ে চলে যায়।

সারাদিন খোঁজ খবর না থাকলেও আছরের পর আবারো দলবদ্ধ হয়ে পাখিগুলো গাছের ডালপালায় অবস্থান নেয়।গুলশান আলী নামে মসজিদের মুসল্লি জানান, প্রায় দেড়মাস আগে থকে এইপাখিগুলো একটানে আশ্রয় নিয়েছে।সন্ধ্যার আগে এখানে আসে। রাত শেষে সূর্য উঠার আগেই এরা খাবারের সন্ধানে চলে যায়।

মীর রওশন আলী রাজু নামে মসজিদে এজকন মুসল্লি বই বিক্রেতা জানান, মসজিদের পাশে আমার বইয়ের দোকান রয়েছে।আমি নিয়মিত এই পাখিগুলো দেখাশুনা করি, কাউকে ধরতে বা মারতে দেই না।আর পাখিগুলোর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।অনেক সময় আমার দোকানে হাতের কাছে চলে আসে আমি ধরি না।

এই পাখিগুলোকে আমি খুব ভালোবাসি।পাখির এই কিচির-মিচির শব্দটা আমার খুব ভালো লাগে।পাখি দেখতে আসা গ্লোরিয়াস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের প্লে শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছোট সোনামনি আয়মান হোসেন মুন জানায়, এখানে এসে পাখি দেখতে খুব ভাল লাগে।অনেক পাখি দেখা যায়।

IPCS News : Dhaka : মাহবুবুল হক খান : দিনাজপুর।