বুধবার ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

আবরার হত্যাকারীরা মদ্যপের কারণে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে মনে হয়নি -ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো: মনিরুল ইসলাম

আপডেটঃ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৩, ২০১৯

নিউজ ডেস্কঃ

আবরার হত্যার সময় পুলিশ মূলত তথ্যের অপর্যাপ্ততার বাধার সম্মুখীন হয়েছে।উপযুক্ত তথ্য পেলে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতো।আবরার কখন প্রাণ হারিয়েছে সেই রকমের কোন তথ্যই পুলিশের কাছে ছিলোনা। বুয়েটে পুলিশ কখন গিয়েছে, কি পদক্ষেপ নিয়েছে সবই চার্জশিটে অন্তর্র্ভূক্ত করা হচ্ছে। আবরার হত্যার আসামীরা মদ্যপ ছিলো বলে আমাদের তদন্তে পাওয়া যায়নি।মদ্যপানের কারনে বা নেশাগ্রস্ত হয়ে তারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে আমাদের তদন্তে মনে হয়নি।আর স্বাক্ষীতেও মদ্যপানের কথা আসেনি।তাই আসামীরা মদ্যপ ছিলো বলে শাস্তি লঘু হবার কোন সুযোগ নাই।আজ (১লা নভেম্বর, শুক্রবার সকালে) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে আবরার হত্যাকান্ড নিয়ে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো: মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিযোগিতার আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।ছায়া সংসদের শুরুতেই আবরার ফাহাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে অডিটোরিয়ামে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক সহ সকলে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।

মো: মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, আবরার হত্যার দায়ভার আমাদের সকলের। যারা আবরার হত্যার সাথে জড়িত তারা সবাই দুর্বৃত্ত, তারা অপরাধী।আবরারের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি যেন নিশ্চিত হয় সেজন্য বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভূল, শুদ্ধ ও পেশাদারিত্বের সাথে চার্জশিট আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রদান করা হবে।হত্যাকারীদের কেউই এখন কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য নয় বিধায় এর তদন্তে কোন রাজনৈতিক প্রভাব নেই।বরং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।যে রুমে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে সেই রুমে সিসিটিভির ফুটেজ না থাকলেও, কারা প্রকৃত অপরাধী তদন্তে তা রেরিয়ে আসবে।যা চার্জশিটে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আবরার হত্যাকান্ড অত্যন্ত বেদনার, দু:খের, কষ্টের।এই হত্যাকান্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা নিকৃষ্টতম অধ্যায়।আমাদের আশ্চার্য করেছে কিভাবে এক সহপাঠি অন্য সহপাঠিকে, বন্ধু বন্ধুকে, ভাই ভাইকে হত্যা করলো।ইতিমধ্যে অতিদ্রুত সময়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ নভেম্বরের ১ম সপ্তাহে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যার চার্জশিট প্রদান করতে যাচ্ছে জেনে আমরা আশাবাদী।মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত হত্যাকারিদের যেভাবে অতিদ্রুত সময়ে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে, আমরা প্রত্যাশা করি আবরার হত্যাকান্ডের দোষীদের বিচারও একইভাবে অতিদ্রুত সম্পন্ন হবে।তিনি আরো বলেন, কতিপয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির নামে যে র‌্যাগিং, টর্চার সেল, হল দখল, আদিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চলছে তা শুধু ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলেই নির্মূল করা সম্ভব হবে না।এর জন্য দরকার মূল্যবোধের চর্চা।বিভিন্ন হলে গেষ্টরুমের নামে টর্চার সেল বন্ধ করে, ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীরা যাতে নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার না হয়, তার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতৃপক্ষকে নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার তৈরি না করে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে উল্লেখ করেন জনাব কিরণ।

‘ছাত্র রাজনীতি নয় মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই আবরার হত্যাকান্ড’ শীর্ষক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তেঁজগাও কলেজকে হারিয়ে সরকারী বাঙলা কলেজ বিজয়ী হয়।প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক হারুন উর রশিদ, আরিফুর রহমান, নয়ন আদিত্য এবং উপ কর-কমিশনার মেহেদী হাসান তামিম।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

ক্যাপশন-১ : আবরার হত্যাকান্ড নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদের বিজয়ী দল সরকারি বাঙলা কলেজকে ক্রেস্ট প্রদান করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো: মনিরুল ইসলাম এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ক্যাপশন-২ : আবরার হত্যাকান্ড নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদের অতিথি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো: মনিরুল ইসলাম এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এর সাথে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের দেখা যাচ্ছে।

IPCS News /রির্পোট