সোমবার ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে অনিয়মের অভিযোগ, যিনি কমিটি দিয়েছেন তিনিই তদন্ত কর্ম-কর্তা

আপডেটঃ ৪:১২ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৩, ২০২২

নিউজ ডেস্কঃ

দিনাজপুর:- দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে একই কর্মকর্তা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের সুপারিশ এবং কমিটি গঠনের অনিয়মও গঠন করছেন।এ যেন- “শিয়ালের কাছে মুরগি আধি”।যিনি কমিটি গঠন করলেন, তিনি আবার ওই কমিটি গঠনের অনিয়ম খুঁজে পাবেন কিভাবে ? এ প্রশ্ন এখন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন ব্যক্তিবর্গের মুখে মুখে।

সাধারণত কমিটি গঠনের পর কোনো অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হলে তৃতীয় পক্ষ অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, জেলা শিক্ষা অফিসার অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত কাজ করা হয়।এটিই যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে।কিন্তু হঠাৎ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কমিটি অনুমোদনের সুপারিশকারীকে দিয়ে অনিয়ম তদন্ত করাচ্ছে।যা স্বাভাবিক নিয়ম-নীতি বহির্ভূত।

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোঁচা শহর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন দেন ১৩/৬/২০২২ইং তারিখে উপবিদ্যালয় পরিদর্শক মাহমুদুল হক সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মোঃ আবেদ আলী আবার তারাই অভিযোগ তদন্তের পত্র জারি করে ১৫/০৬/২০২২ইং তারিখে সেখানে তদন্তে যান।ক’দিন আগে যারা উৎকোচে বুদ হয়ে কমিটির পাসের সুপারিশ দিলেন।

তারা কিভাবে অনিয়ম খুঁজে পাবেন তা বুঝে আসছে না শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের।বোর্ডসূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক মোঃ মাহামুদুর রহমান এবং সহ-বিদ্যালয় পরিদর্শক শাহ মোঃ ফয়জুল ইসলাম ও মোঃ আবেদ আলী বোর্ডের অধীনে দিনাজপুর, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক স্কুলে এ ঘটনা ঘটিয়ে চলেছেন।

তারা দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোঃ জহির উদ্দীন স্বাক্ষরিত চিঠির বলে এ কাজগুলো করছেন।ওই সূত্র আরো জানায়, উল্লেখিত কর্মকর্তাগণের পরস্পরের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে।এসব কাজের বিনিময়ে তারা বিপুল পরিমান উৎকোচ গ্রহণ করেন।জানা গেছে, ওই কর্মকর্তাগণ নামমাত্র স্কুল পরিদর্শনসহ আনুসাঙ্গিক কাগুজে কাজ সম্পন্ন করে বিদ্যালয় মঞ্জুরীরও সুপারিশ করেন।

মূলত অর্থ ছাড়া এসব কর্মকর্তার দ্বারা কিছুই হয় না।বিশেষ করে উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক মাহামুদুর রহমান টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না।তিনি অল্প কিছু দিন আগে প্রেষণে এই বোর্ডে আসেন।আর এসেই যেন দেখতে পান “আলাদ্দীনের চেরাগ”।নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক বোর্ডের একজন কর্মচারী জানান, মাহামুদুর রহমান স্যার টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না।অবশ্য টাকা তো সবারই ভালো লাগে।

তবে মাহামুদুর স্যারের টাকা একটু বেশিই ভালো লাগে।উনার দ্বারা কোনো কাজ করতে চাইলে “আগে টাকা- তারপর কাজ” এই সূত্রে চলতে হয়।এ ব্যাপারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক মাহামুদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, “আমরা ইচ্ছা করলেই কিছু করতে পারিনা।আমাদের কর্তৃপক্ষ আছে।তাদের স্বাক্ষরিত চিঠি মোতাবেক আমাদের কাজ করতে হবে।

একই ব্যক্তি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সুপারিশ আবার কমিটি গঠনে অনিয়ম তদন্ত করা সঠিক কি না ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যা হয়েছে তা বোর্ডের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী হয়েছে।এখানে কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।তবে শিক্ষা সচেতন ব্যক্তি-বর্গের দাবি- অবিলম্বে এসব বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

নচেৎ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হবে এবং মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।তাই বোর্ডকে রক্ষায় এ ধরণের অসাধু কর্ম-কর্তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে বলে মনে করেন তারা।

IPCS News : Dhaka : আব্দুস সালাম : দিনাজপুর।