সোমবার ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে জেলা মৎস্য দপ্তরের মত-বিনিময় সভা

আপডেটঃ ৩:৫০ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৩, ২০২২

নিউজ ডেস্কঃ

দিনাজপুর:- দিনাজপুর জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।“নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ-বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২৩-২৯ জুলাই-২০২২ পর্যন্ত দেশব্যাপী জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালন হবে।শনিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ীস্থ জেলা মৎস্য দপ্তর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের বিস্তারিত বিষয় সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মুক্তাদির খান।এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে তৈরী পোশাকের পরই মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।শুধু তাই নয়, গ্রামীন জনগোষ্ঠির আমিষের ৬০ শতাংশ চাহিদা যোগান দেয় মাছ।বাংলাদেশ এখন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ন।

মতবিনিময় সভায় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে এক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন দিনাজপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আন্না রাণী দাস।এতে বলা হয়, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৭ দশমিক ৫৪ লাখ মেট্রিক টন।৩৭ বছরের ব্যবধানে ছয়গুন বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০-২১ সালে হয়েছে ৪৬ দশমিক ২১ মেট্রিক টন।

বর্তমান সরকারের বাস্তবমূখি কার্যক্রমের ফলে বাংলাদেশ এখন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।এতে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে, বাংলাদেশের মানুষের মাছ খাওয়ার পরিমানও বেড়েছে।আগে জনপ্রতি প্রতিদিন গড়ে ৬০ গ্রাম মাছ খেত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপন্নপ্রায় মাছের সংরক্ষণ, অবাধ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে সার্বিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে।গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও আভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৫৩৪টি মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে।অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট জলাশয়ে মাছের উৎপাদন ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে।

অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার ফলে বিলুপ্তপ্রায় এবং বিপন্ন ও দুর্লভ প্রজাতির মাছ যথা একঠোঁট, টেরিপুটি, মেনি, রানী, গোড়া, গুতুম, চিতল, পলি, বামোস, কালিবাউশ, আইড়, টেংড়া, সরপুটি, মধু পাবদা, রিঠা, কাজলি, চাকা, গজার, বাইম, ইত্যাদি তাৎপর্যপূর্ণ পুনরার্বিভাব ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।গত কয়েক দশকে দেশে চাষ করা মাছের সবচেয়ে বেশী অগ্রগতি হয়েছে।

এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দিনাজপুর জেলায় মোট পুকুর রয়েছে ৫০ হাজার ৩২০টি, মোট নদী ১৯টি, মোট সরকারী হ্যাচারীর সংখ্যা ৬টি, বেসরকারী নিবন্ধিত মৎস্য হ্যাচারীর সংখ্যা ১১টি।জেলায় মোট মাছের চাহিদা ৬৮ হাজার ১০০ মেট্রিক টন।মোট উৎপাদন হয় ৬২ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন।মোট মাছের ঘাটতি ৫ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন।

এই ঘাটতি মোকাবেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প স্থাপন, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ, জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

তাছাড়া দিনাজপুর জেলায় মৎস্য অধিদপ্তরের সাফল্যের মধ্যে রয়েছে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ১৫ শতাংশ, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছচাষ, জলাশয় সংস্কার, প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রদর্শণী স্থাপন, স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ, মৎস্য আইন প্রয়োগ, সচেতনতামূলক সভা, মৎস্য অভয়াশ্রম মেরামত ও বিল নার্সারি স্থাপন।

এক প্রশ্নের উত্তরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মুক্তাদির খান জানান, খাল-বিল, নদী-নালা থেকে থেকে প্রাপ্ত মাছ ও পুকুরে চাষ করা মাছের গুনগত স্বাদ ও পুষ্টির তেমন কোন পার্থক্য নেই।তিনি পুকুরে গোবর প্রয়োগ, হাঁস-মুরগির বিষ্টা ব্যবহার না করার জন্য মৎস্য চাষীদের প্রতি আহবান জানান।কারণ এতে মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও ব্যাহত হয়।

এ ব্যাপারে তিনি গনমাধ্যম কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।মতবিনিময় সভায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মুক্তাদির খান দিনাজপুর জেলার মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।এ সময় তিনি জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী, সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় দিনাজপুর জেলা মৎস্য দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক পুরবী রানী রায়, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আন্না রাণী দাস, পুলহাট মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক মোঃ খায়রুল আলম, সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাদিউর রহমানসহ জেলা মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দিনাজপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

IPCS News : Dhaka : মাহবুবুল হক খান : দিনাজপুর।