বুধবার ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, রেলওয়ে ব্রীজ ধ্বসে পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ

আপডেটঃ ৭:২৬ অপরাহ্ণ | জুন ১৮, ২০২২

নিউজ ডেস্কঃ

নেত্রকোণা:-টানা ৩ দিন ধরে অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণা জেলার ৬টি উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে।পানির প্রবল তোড়ে মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথের ইসলামপুর নামক স্থানে রেল ব্রীজ ভেঙে গিয়ে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, টানা ৩ দিন ধরে অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণা জেলার বেশীর ভাগ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রধান নদ-নদী সোমেশ্বরী, কংশ, মগড়া, উব্দাখালী ও ধনু নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মোহনগঞ্জ রেলস্টেশন জিআরপি ফাঁড়ি’র ইনচার্জ জানান, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পানির প্রবল স্রোতে মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথের ইসলামপুর নামক স্থানে ব্রীজের দুই পাশে মাটি ধ্বসে গিয়ে ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় সারা দেশের সাথে এ রেলপথে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।‘হাওড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি মোহনগঞ্জে আটকা পড়েছে।

ফলে এ রেলপথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৪শত ৭৩ হেক্টর জমির আউশ ধান ও নানা ধরনের সবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় সহস্রাধিক পুকুর তলিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় প্রায় ৫ শতাধিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।নেত্রকোণা জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা জেলায় এ পর্যন্ত বন্যা দূর্গত মানুষদের জন্য ১৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।এ সব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ১৬,১৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ শনিবার ট্রলারে করে নেত্রকোণা সদর উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।তিনি এ সময় বানবাসী মানুষের দুর্ভোগ দুর্দশার কথা শুনে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের মাঝে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন।

এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন, জন প্রতিনিধি ও রেডক্রিসেন্ট সদস্যদেরকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতার নির্দেশ প্রদান করেন।এ ব্যাপারে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সাথে যোগোযোগ করলে তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

সেখান থেকে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি খোজ খবর নেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে।ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য ৬৮ মেঃ টন চাল, ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

IPCS News : Dhaka : গোলাম কিবরিয়া সোহেল : নেত্রকোণা।