শুক্রবার ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন’ নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বহুমাত্রিক চাপ দরকার-ড.ইমতিয়াজ আহমেদ

আপডেটঃ ৩:২৭ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

নিউজ ডেস্কঃ

শুধু আন্তর্জাতিক চাপ নয়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বহুমাত্রিক চাপ দরকার।যেখানে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সব গোষ্ঠিরই ভূমিকা রাখতে হবে।চতুর্দিক থেকে যত চাপ আসবে মিয়ানমার তখন বাধ্য হবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে স্বীকৃতি দিয়ে ফিরিয়ে নিতে।রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টা এবার ছিলো জোনোসাইডাল ইনটেন্ড।যে মুহুর্তে একটা দেশ জেনোসাইড ঘটায় তখন সেটা আর দ্বিপাক্ষিক থাকে না, আপনা আপনিই আন্তর্জাতিক হয়ে যায়।মিয়ানমারে যদি ১০০% লোকও ফিরিয়ে নেয় তারপরেও একদিন না একদিন এই জেনোসাইডের বিচার হতেই হবে।তা না হলে এই ধরনের জেনোসাইড বারবার ঘটতেই থাকবে।মিয়ানমারের জনগনই হয়তো একদিন এর বিচার করবে।তবে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চীনের হাতে অনেকগুলো কার্ড রয়েছে।যে কার্ডগুলি ব্যাবহার করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চীন মিয়ানমারের সাথে খেলা করতে পারে।আজ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) ‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন’ নিয়ে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট’ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেন।ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব মুন্সী ফয়েজ আহমদ।ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এই প্রতিযোগিতায় লালমাটিয়া মহিলা কলেজকে পরাজিত করে ইডেন মহিলা কলেজ বিজয়ী হয়।

সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন-রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির মিয়ানমারের প্রতি রয়েছে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট।এই জনগোষ্ঠী বারবার মিয়ানমার কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছে।আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে যৌথ জোট গঠন করে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় তাদের দেশে যেতে পারে মায়ানমারকে এই ধরনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।আর এর জন্য আন্তর্জাতিক গোষ্ঠিগুলির আরো সম্পৃক্ততার প্রয়োজন।কূটনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই।আমাদেরকে ধৈর্য্য হারালে চলবেনা।রোহিঙ্গা সমস্যা জিইয়ে রেখে কারো স্বার্থই সিদ্ধ হবেনা।চীনকে এই বিষয়ে আরও বেশি বুঝতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সম্পূর্ন মানবিক কারনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে চোখে এখন শর্ষে ফুল দেখছে।রোহিঙ্গারা এখন আর তাদের দেশে ফিরে যেতে চায়না।রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ কোন কিছুৃতেই কিছু করে উঠতে পারছেনা।অবস্থার দৃষ্টে দেখাযাচ্ছে ছেড়েদে মা কেঁদে বাঁচি।মনেহচ্ছে এই সমস্যা সমাধানে ক‚টনৈতিক ভাবে আমরা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছি।রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কোন শক্তিধর রাষ্ট্রই তাদের জোরালো ভ‚মিকা রাখছেনা।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, রাশিয়া, ভারত প্রত্যেকেই মিয়ানমারের সাথে তাদের ব্যাবসা বাণিজ্যের হিসেব গুনছে।রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখী হলেও লাভবান হয়েছে অন্য সকলে।তবে মনে রাখতে হবে, এই সমস্যার সমাধান কুটনৈতিক ভাবেই করতে হবে।মিয়ানমারের সাথে যুদ্ধ বাধলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বাংলাদেশই।বিশ্ব সামরিক শক্তিতে মিয়ানমারের অবস্থান বাংলাদেশের চাইতে শক্তিশালি।সামরিক শক্তিতে মিয়ানমারের অবস্থার ৩৭ তম, বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭ তম।জনাব কিরণ আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠির চাপের পাশাপাশি অঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে চীন ও ভারতের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন।তবে মিয়ানমারে যে সকল সামরিক-বেসামরিক গোষ্টি বা ব্যাক্তি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর হামলা চালিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের উপযুক্ত বিচার হতে হবে।মনে রাখতে হবে রোহিঙ্গা সংকট শুধু একা বাংলাদেশের নয়।এই সমস্যা সমাধান করা না গেলে এই অঞ্চল নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। সেই ঝুঁকিথেকে চীন-ভারতও মুক্ত নয়।ইতিমধ্যে ১১ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আমরা বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করেছি।বাংলাদেশে অবস্থানকালে এর মধ্যে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে।২৭ হাজার রোহিঙ্গা নারী সন্তান প্রসবের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিকরে বাংলাদেশী পাসপোর্টে বিদেশে যাবার চেষ্টা করছে।চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, হত্যাকান্ড সহ নানা বেআইনি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপই এখন বেশি জরুরী’ শীর্ষক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক ঝুমুর বারী, সাংবাদিক মাসুদ করিম, এবং ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

ক্যাপশন-১: ‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন’ নিয়ে ছায়া সংসদের অতিথি অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব মুন্সী ফয়েজ আহমদ এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এর সাথে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের দেখা যাচ্ছে।

ক্যাপশন-২: ‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন’ নিয়ে ছায়া সংসদের বিজয়ী দল ইডেন মহিলা কলেজকে ক্রেস্ট প্রদান করছেন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব মুন্সী ফয়েজ আহমদ এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ক্যাপশন-৩: ‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন’ নিয়ে ছায়া সংসদের বিজয়ী দল ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকদের সাথে অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব মুন্সী ফয়েজ আহমদ এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

Ipcs News/রির্পোট