বুধবার ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহীর বাতাসে বাড়ছে ক্ষতিকর বস্তুকণা

আপডেটঃ ১২:২৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৬, ২০২২

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী প্রতিনিধি :- রাজশাহী মহানগরীতে বায়ুতে অতি ক্ষতিকর বস্তুকণা পি.এম ২.৫ নির্ধারিত ঘণমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।রাজশাহীর মহানগরীর ৫টি জায়গার বায়ু পরীক্ষা করে তিনটি জায়গায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।অন্য দুই স্থানে অতি ক্ষতিকর বস্তুকণার উপস্থিতি নির্ধারিত ঘণমাত্রায় আছে।বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে বারিন্দ এনভায়রনমেন্টের সহযোগিতায় পরিবেশ বান্ধব শহর রাজশাহীর বায়ুতে বিদ্যমান বস্তকণার পরিমাণ করা হয় সম্প্রতি সময়।বায়ুতে বিদ্যমান যেসব বস্তুকণা থাকে সেগুলোর কোনগুলো বেশি ক্ষতিকর।আবার অন্যগুলো কম ক্ষতিকর।এসব বস্তুকণা পার্টিকুলেট ম্যাটার (পি.এম) ২.৫ এবং পি.এম ১০ নির্ণয় করা হয়।অতি ক্ষতিকর বস্তুকণাগুলোকে পি.এম ২.৫ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বস্তুকণা পি.এম ১০ দ্বারা নির্নয় করা হয়।

বাংলাদেশের বায়ুর নির্ধারিত ঘনমাত্রা পি.এম ২.৫এর জন্য ৬৫ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার এবং পি.এম ১০এর জন্য ১৫০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার ২৪ ঘন্টার জন্য।রাজশাহীর ৫টি জায়গায় বায়ুতে বিদ্যমান বস্তকনার পরিমাণ পরীক্ষা করা হয়।রাজশাহী মহানগরীর শহিদ কামারুজ্জামান চত্বরে পরীক্ষায় পি.এম ২.৫ পাওয়া যায় ৭৩ মাইক্রগ্রাম/ ঘনমিটার, এবং পি.এম ১০ পাওয়া যায় ৮৪ মাইক্রোগ্রাম/ ঘনমিটার।

লক্ষ্মীপুর মোড়ে পি.এম ২.৫ পাওয়া যায় ৭১ মাইক্রগ্রাম/ ঘনমিটার, এবং পি.এম ১০ পাওয়া যায় ৮০ মাইক্রোগ্রাম/ ঘনমিটার।সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে পি.এম ২.৫ পাওয়া যায় ৫৫ মাইক্রগ্রাম/ ঘনমিটার এবং পি.এম ১০ পাওয়া যায় ৬৬ মাইক্রোগ্রাম/ ঘনমিটার।তালাইমারী মোড়ে পি.এম ২.৫ পাওয়া যায় ৭৬ মাইক্রগ্রাম/ ঘনমিটার এবং পি.এম ১০ পাওয়া যায় ৮৫ মাইক্রোগ্রাম/ ঘনমিটার।

বিসিক মঠপুকুরের মোড়ে পি.এম ২.৫ পাওয়া যায় ৫৬ মাইক্রগ্রাম/ ঘনমিটার, এবং পি.এম ১০ পাওয়া যায় ৬৮ মাইক্রোগ্রাম/ ঘনমিটার।পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন খান (পি.এইচ.ডি.)।উনাকে সহযোগিতা করেন অলি আহমেদ (পি.এইচ.ডি. গবেষক), শামসুর রাহমান শরীফ, ইফাত আরা।বায়ু পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল শুষ্ক মৌসুমের শেষে রাজশাহীর বায়ুতে বিদ্যমান বস্তকনা পর্যবেক্ষণ।

পরীক্ষায় দেখা যায় যে, বাংলাদেশের বায়ুর নির্ধারিত ঘন মাত্রা পি.এম ২.৫এর জন্য ৬৫ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার।কিন্তু রাজশাহী মহানগরীর যে ৫ জায়গায় পি.এম ২.৫ পরীক্ষা করা হয়েছে তাতে দেখা যায় বাংলাদেশের বায়ুর নির্ধারিত ঘনমাত্রা ৬৫ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটারের চেয়ে বেশি তিনটি জায়গায়। অন্য দুটো জায়গায় কম।

ওই দুই জায়গা হচ্ছে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট পি.এম ২.৫ পাওয়া যায় ৫৫ মাইক্রগ্রাম/ ঘনমিটার ও বিসিক মঠপুকুরে পি.এম ২.৫ পাওয়া যায় ৫৬ মাইক্রগ্রাম/ ঘনমিটার।কাঁচ, ইটের কণা, ধোঁয়া বা ধুলা, এগুলোকে পিএম ২.৫ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।পিএম ২.৫ হচ্ছে এমন এক ধরনের কঠিন বা জলীয় অতি সূক্ষ্মকণা যা আড়াই মাইক্রোন বা তার নিচে চওড়া।

এক ইঞ্চি সমান ২৫০০০ মাইক্রোন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এ কণা একটা চুল যতটা চওড়া তার ত্রিশ ভাগের এক ভাগ সমপরিমাণ চওড়া।ফলে এটা এমন সূক্ষ্মকণা যা খালি চোখে দেখা যায় না।এ কণাগুলো এত সূক্ষ্ম যে খুব সহজেই প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে যায়।সেখান থেকে হৃৎপিণ্ড হয়ে রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

তারপর শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ রোগ যেমন হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নাক দিয়ে পানি পড়া থেকে শুরু করে এমন ছোটখাটো অসুখ, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসসহ হার্ট এ্যাটাক এবং ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করতে পারে।এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা পিএম২.৫-কে ‘জি-১ কার্সিনোজেন’ এর তালিকাভুক্ত করেছে।

এ কণা মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিতে একদম প্রথম সারিতে অবস্থান করছে।তাছাড়া, বৃদ্ধ এবং বাচ্চাদের জন্য এ কণা আরও বেশি ক্ষতিকর।বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি-২০১৭ নামক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের কারণে আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।বিশ্বব্যাপী ২০১৫ সালে সাকল্যে ৪২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বায়ুদূষণের কারণে।

প্রকৌশলী জাকির হোসেন খান জানান, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের একান্ত চেষ্টার কারণে পরিবেশগত দিক থেকে রাজশাহী মহানগরীর অবস্থান অনেক ভালো।

তবে শহর আধুনিকায়নে ইটভাটা, শিল্প কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির কালো ধোঁয়া, চুলার আবর্জনা, কাঠ-কয়লা ও কেরোসিন দিয়ে রান্নার ধোঁয়া, হাজার হাজার ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহনের ধুলা ও ধোঁয়া এবং রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজের ধুলাসহ নানান কারণে বায়ু দূষিত হয়ে থাকে।

তিনি আরো জানান, বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি হয় শ্বাসতন্ত্রের রোগ।এর মধ্যে হাঁপানি, ফুসফুসের কাশি ছাড়াও ক্যান্সার, স্ট্রোক ও কিডনির সমস্যা হয়।বায়ূ দূষণের জন্য শ্বাসকষ্ট ছাড়াও পেটের সমস্যা, ফুসফুস জনিত সমস্যা, চামড়ার সমস্যা, হাঁপানি বা এলার্জিজনিত সমস্যা, চোখ ও নাকের সমস্যা, যে কোন সংক্রমণ, গর্ভকালীন সমস্যা এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।

IPCS News : Dhaka : আবুল কালাম আজাদ : রাজশাহী।