রবিবার ২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

ডিসিদের মনে রাখতে হবে, জন-গণের টাকায় সংসার চলে, রাষ্ট্রপতিঃ

আপডেটঃ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৯, ২০২২

নিউজ ডেস্কঃ

রাষ্ট্রপতি মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলতে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন।গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিন ব্যাপী বার্ষিক ডিসি সম্মেলন-২০২২ অনুষ্ঠানে বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্নীতি‘হলো উন্নয়নের পথে বড় বাধা।যার কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।গত ২ বছরে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে মন্ত্রি-পরিষদ বিভাগ ‘ডিসি সম্মেলন’ আয়োজন করেনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, আমলাতন্ত্র এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।সেই দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রয়োগ অত্যাবশ্যক, কিন্তু ক্ষমতার যাতে অপপ্রয়োগ না হয় তা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি।আবদুল হামিদ বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনে বিরাজমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনার জন্য জেলা প্রশাসক সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারের বহুমুখী কার্যক্রমের সমন্বয় ও তত্ত্বা-বধানকারী হিসেবে আপনারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।ডিসিদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা ও আপনারা জনগণের সেবক।তাই জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেবেন।

এই সেবাদান কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, মনে রাখতে হবে জনগণের টাকায়ই আমাদের সংসার চলে।তাই সেবা পাওয়াটা জনগণের অধিকার।রাষ্ট্রপতি বলেন,দেশের প্রতিটি মানুষ যেন এই কর্মসূচির সুফল ভোগ করতে পারে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদেরকে সচেষ্ট হতে হবে।আবদুল হামিদ বলেন, বিগত বছরগুলো থেকে আলাদা ভাবে পরিবেশ বান্ধব গ্রামোন্নয়নের দিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

তাই শহরের ন্যায় গ্রাম গুলোতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।মফস্বল এলাকা গুলোতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, আবাসন, শিক্ষা, কৃষি, শিল্পের প্রসার, চিকিৎসা সেবা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানীয় জল ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে উপজেলা সদরকে আধুনিক শহর-উপশহর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দেন।

ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জনগণের বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা খুব বেশি, সরকার দক্ষ, আধুনিক, জন কল্যাণমুখী ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ভূমি সংক্রান্ত জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে জনগণকে ভূমি বিষয়ক সেবা প্রদানের জন্য ডিজিটালি কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল চক্রের সহযোগিতায় ভূমি রেকর্ডের সময় এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী অনেক অনিয়ম করছে এবং অবৈধ সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে।তাই তিনি এসব ব্যাপারে ডিসিদের কঠোর হতে আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে, সরকারি তথ্য ও সেবা নাগরিকের জন্য সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জেলা ই-সার্ভিস সেন্টার, পৌর ডিজিটাল সেন্টার ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছে।

এ সেবা কেন্দ্রগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ডিসিদেরকে জোরালো ভূমিকা রাখার এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ এসডিজির সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে এবং ২০৪১ সালে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।

IPCS News : Dhaka :