রবিবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

হলি আর্টিজানের ঘটনায় জাতি লজ্জিত:-ডিএমপি কমিশনার মো: আছাদুজ্জামান মিয়া

আপডেটঃ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৩, ২০১৯

নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে রিফাত হত্যা, বিচারকের কক্ষে খুন, ধর্ষণ-এসব আমাদের আমাদের উদ্বিগ্ন করে। তবে দেশে অপরাধ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ছিনতাই, রাহাজানি, টেন্ডারবাজি, মলমপার্টিসহ সকল সংঘটিত অপরাধ নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে বা দু একজন অপরাধীকে বন্দুক যুদ্ধে নির্মূল করে অথবা কাউন্টার ফায়ার করে সহিংস উগ্রবাদ বা জঙ্গীবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। জঙ্গীবাদ নির্মূল করতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি করা। তবে জঙ্গিবাদ নির্মূলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ফলে ম্যাজিকের মত তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে হলি আর্টিজানের ঘটনায় পুরো জাতি লজ্জিত। ধর্মের খন্ডিত ব্যাখা দিয়ে যাতে দেশে কেউ আর এ ধরনের ঘটনা না ঘটাতে পারে সে বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে। বাংলা ভাইকে শক্ত হাতে দমন করা গেলে, দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান বন্ধ করতে পারলে এবং ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলার ঘটনা প্রতিহত করা গেলে হোলি আর্টিজানের মতো ঘটনা ঘটতো না। গতকাল ২১ জুলাই ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার মো: আছাদুজ্জামান মিয়া এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি রাজধানীর বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-তে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসাকে হারিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়া এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আমদের দেশে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের মধ্যে রয়েছে দারুন সম্প্রীতি। কোন মুসলমানের মৃত্যুতে তার দাফনে যেভাবে সকল ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করে ঠিক একইভাবে কোন হিন্দু ব্যাক্তির মৃত্যুতেও চিতায় দাহ করতে মুসলমানরা অংশগ্রহণ করে। সকল প্রকার জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ থাকে সকল ধর্মের মানুষের। তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে দেশে আইনের শাসন, সুশাসন বা গণতন্ত্রের ঘাটতি হচ্ছে কিনা? যার কারণে যাতে যেকোন সময় উগ্রবাদ-জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। তাই অধিক কর্মসংস্থান, আইনের শাসন, জবাবদিহি মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, কর্মমূখী শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ়সহ জঙ্গীবাদ দমনে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার আরো বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এই সহিংস কর্মকান্ড থেকে মুক্তির জন্য তরুণদের নিয়ে বেশি বেশি করে আন্তধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করতে হবে। এক ধর্মের মানুষের সাথে অন্য ধর্মের মানুষের পারস্পারিক সহ অবস্থান আরও বাড়াতে হবে। একই সাথে সকল ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে আরও বেশি করে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে আন্তধর্মীয় সংলাপ আয়োজন খুবই জরুরি। জনাব কিরণ বলেন সকলকে বুঝতে হবে এই পৃথিবীর আলো-বাতাস, চাঁদ-তারা-সূর্য কোনো বিশেষ ধর্মের মানুষের জন্যে নয়। তা পৃথিবীর সকল মানবকূলের জন্য। আমরা একই পুকুরে সব ধর্মের অনুসারীরা গোসল করি। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করি, একই মাঠে খেলা করি। আবার এক সম্প্রদায়ের কারো বিয়েতে অন্য ধর্মের অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন। একই হাসপাতালে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ চিকিৎসা গ্রহণ করছে। কোথাও মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান বলে তারতম্য নেই।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন- সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক সাজেদা পারভীন সাজু, সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন, সাংবাদিক জিয়া খান, ফ্রীল্যান্স সাংবাদিক জাহিদ রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

ক্যাপশন:১ ‘সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী’ বিতর্ক প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দলের বিতার্কিকদের ট্রফি প্রদান করছেন ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

¬¬¬ক্যাপশন:২ ‘সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী’ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণসহ অন্যান্যদের সাথে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলের বিতার্কিকদের ট্রফি হাতে দেখা যাচ্ছে।

IPCS News /রির্পোট