শুক্রবার ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি কিছুদিন থাকবে :-কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান মনিরুল ইসলাম

আপডেটঃ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৭, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক:

নানা কারণে বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকান্ডের ঘটনায় কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এক ধরণের ক্রান্তিকাল চলছে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে। নিউজিল্যান্ডের মসজিদে এবং শ্রীলঙ্কার গীর্জায় হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঝুকি কিছুটা বেড়েছে। যা কিছুদিন থাকবে। এ ঝুকি বৃদ্ধি পেলেও আমরা তৎপর আছি। তবে জঙ্গি হামলার ঝুকির মাত্রা কম। বিশে^ নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে আইএস ও আল-কায়দার সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তার করে জঙ্গিবাদের যে ঢেউ তৈরি হয়েছিল তা আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমাদের হত্যা, নারী-শিশু নির্যাতন, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধভাবে দাড়াতে হবে। আজ ১৬ই জুলাই, মঙ্গলবার রাজধানীর লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অডিটোরিয়ামে জঙ্গিবাদ বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ ও সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিজয়ী দলসমূহকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো: মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জঙ্গীবাদ বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় আটশত শিক্ষক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহবায়ক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান মুকুল ও লালমাটিয়া মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর ড. ফেরদৌস আরা খানম।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, উগ্রবাদ শুধুমাত্র ধর্মের কারণে হয় না। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিয়ে সহিংস উগ্রবাদ রুখে দেয়ার জন্য মননশীল মানুষ তৈরি করতে হবে। স্কুল কলেজে পর্যাপ্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। যুক্তি মনস্ক মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীরা যাতে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য বিতর্ক অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরো বেশি বেশি করে করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার নিরপেক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অন্য ধর্ম-বর্ণের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে ইসলাম কখনো হত্যা বা সহিংসতাকে সমর্থন করে না। আমাদেরকে প্রিয় নবীর মত সহনশীল ও পরমত সহিষ্ণু হতে হবে। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।


ক্যাপশন-২: সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ও লালমাটিয়া মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলাম এর সাথে বিজয়ী দলের বিতার্কিকদের দেখা যাচ্ছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকলেও তা মোকাবেলায় আমাদের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। এখানেই সব ধর্মের-বর্ণের মানুষের এক অপূর্ব মিল-বন্ধন রয়েছে। বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান প্রত্যেকেই যার যার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করছে। তবে যখন আমরা দেখি নিউজিল্যান্ডে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মুসলমানদের উপর হামলা করে মানুষ হত্যার করা হয় এবং এর কিছুদিন পর শ্রীলংকায় গীর্জায় প্রার্থনারত অবস্থায় খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের উপর হামলা করে মানুষ মারা হয় তখনই আমরা শংকিত হই। এ কারনে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় তৃপ্ত থাকলে আমাদের চলবেনা। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে দেশে আইনের শাসন, সুশাসন বা গনতন্ত্রের ঘাটতি হচ্ছে কিনা? যার কারনে যাতে যেকোন সময় জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। তাই অধিক কর্মসংস্থান, আইনের শাসন, জবাবদিহি মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, কর্মমূখী শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ়সহ জঙ্গীবাদ দমনে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার আরো বৃদ্ধি করতে হবে। এই সহিংস কর্মকান্ড থেকে মুক্তির জন্য তরুণদের নিয়ে বেশি বেশি করে আন্তধর্মীয় সংলাপ ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের আয়োজন করতে হবে। সকলকে বুঝতে হবে এই পৃথিবীর আলো-বাতাস, চাঁদ-তারা-সূর্য কোনো বিশেষ ধর্মের মানুষের জন্যে নয়। তা পৃথিবীর সকল মানবকূলের জন্য। আমরা একই পুকুরে সব ধর্মের অনুসারীরা গোসল করি। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করি, একই মাঠে খেলা করি। আবার এক সম্প্রদায়ের কারো বিয়েতে অন্য ধর্মের অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন। কোথাও মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান বলে তারতম্য নেই। একই হাসপাতালে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ চিকিৎসা গ্রহণ করছে। তাই এক ধর্মের মানুষের সাথে অন্য ধর্মের মানুষের পারস্পারিক সহ অবস্থান আরও নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সকল ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে আরও বেশি করে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে আন্তধর্মীয় সংলাপ আয়োজন খুবই জরুরি।

তিনি দুঃখ করে বলেন, কোথাও কোন উগ্রবাদী মুসলমান কাউকে হামলা করলে ফলাও করে ইসলামিক টেরোরিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু যখন মুসলমানদের উপর কেহ হামলা করে তখন কোন বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বলতে শুনিনা কোন শ্বেতাঙ্গ টেরোরিস্ট সেখানে হামলা করেছে। আবার দেখা যায়, পৃথিবীর বড় শক্তিধর দেশগুলোতে কোন জঙ্গী হামলা ঘটনার পরও আমরা অতি সহজে সেই দেশে আমাদের নাগরকিদের জন্য রেড এলার্ট জারি করিনা। অথচ আমাদের দেশে ছোটখাট কোন ঘটনার আশংকার কথা বলে আমদের দেশে তথাকথিত রেড এলার্ট জারি করে বড় ভাইয়েরা। ভ্রমনের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শত শত নিরাপত্তা দেওয়ার পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ বাতিল করা হয়। যাহা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এখানে উল্লেখ্য দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা ও সরকারি বাঙলা কলেজ। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলসমূহকে ট্রফি ও সনদ প্রদান সহ ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


ক্যাপশন-১: সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল লালমাটিয়া মহিলা কলেজের বিতার্কিকদের সনদ প্রদান করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

IPCS News /রির্পোট