শুক্রবার ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন ইউপি মেম্বার!

আপডেটঃ ১:০৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৫, ২০১৯


নিউজ ডেস্কঃ

গোপালগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ৩০ হত দরিদ্রের ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) মুকসুদপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকতার্ তাসলিমা আলীর কাছে ৩০ হত দরিদ্র ওই মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার জাকির শেখ হত দরিদ্রদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে টাকা ফেরৎ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জায়গা আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বরাদ্ধকৃত ঘর ও গভীর নলকুপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গত বছরের ডিসেম্বরে ওই ইউপি মেম্বার ১ নং ওয়ার্ডের ৩০ জন হত দরিদ্রের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে অন্তত ৪ লাখ টাকা আদায় করেন। ছয় মাস অতিবাহিত হলেও ইউপি মেম্বার ঘর ও গভীর নলকুপ দিতে ব্যর্থ হন।ঘর ও টিউবওয়েলের পরিবর্তে টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে ইউপি মেম্বার তাদের হয়রানি করতে থাকে। ক্ষতিগ্রস্থরা প্রতিকার পেতে ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ননীক্ষীর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনি শেখ বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে জাকির মেম্বর আমাদের ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে দু’ ভাইয়ের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমরা দিন মজুর ধার দেনা করে মেম্বারকে এ টাকা দিয়েছি। এ রকম আরো অন্তত ২৮ জনের কাছ থেকেও সে টাকা নিয়েছে। এখনও তিনি আমাদের ঘর দিতে পারেননি। টাকা ফেরৎ চাইলে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। হয়রানি করছেন। এ কারণে টাকা ফেরৎ পেতে আমরা ৩০ হতদরিদ্র পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি।

ইউপি সদস্য জাকির শেখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ১৬ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। তবে সবাই ১৫ হাজার করে টাকা দেয়নি। কেউ ৫ শ’, ১ হাজার টাকা কম দিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকৌশলী আল মামুন আমার ওয়ার্ডের লোকজনদের ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলেছিলো। তার কথা বিশ্বাস করে গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে টাকা তুলে তাকে দিয়েছিলাম। মামুন স্যার টাকা ফেরৎ দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্যার টাকা দিলে আমি গ্রামের লোকজনের টাকা ফেরৎ দিয়ে দেব। টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি আমার ইউপি চেয়ারম্যানকেও বলেছি।

ননীক্ষীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান মিনা বলেন, আমি শুনেছি জাকির মেম্বার কিছু লোকের কাছ থেকে ঘর দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। আমি আমার পরিষদের সকল সদস্যদের নিয়ে সভা করে অনেক আগেই ঘর বাবদ কোন টাকা না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। জাকির আমাকে এ বিষয় আগে জানায়নি। এখন সাধারণ মানুষের টাকা তাকে ফেরত দিতে হবে ।

মুকসুদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকৌশলী আল মামুনের মোবাইলে (০১৭১১৭১৪—) বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া তাকে ক্ষুদ্র বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশলী আল মামুনের এ ধরণের টাকা নেয়ার অভ্যাস রয়েছে।মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আলী বলেন, এই বিষয় একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

IPCS News /রির্পোট -সবুজ