শুক্রবার ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আপডেটঃ ২:৫৪ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৮, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

আদালত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন।এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এ মামলার অপর পাঁচ আসামির।বুধবার দুপুরে এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।২২ আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।এখনও পলাতক রয়েছে বাকি ৩ আসামি।সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২২ আসামিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ।

সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

এর মধ্যে পলাতক রয়েছে এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)।যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত ৫ আসামি হলো-বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

কতিপয় ছাত্রলীগ নেতা সভা করে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে আসামিরা বুয়েটের ১৭ তম ব্যাচের ছাত্র আবরারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়,এবং পর দিন রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।এ হত্যার ঘটনায় তার বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলা করেন।তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলার চার্জশিট দেয়।এদের মাঝে ১১জন আসামি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।বাকি ১৪ জন বিভিন্ন ভাবে সম্পৃক্ততার কারণে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হয়।

আদালত গত বছরের ২১ জানুয়ারি এ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন।ওই বছরের ১৮ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলাটি বদলির আদেশ দেন।একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়।এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি গত ১৪ মার্চ আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেনি।এদের মাঝে কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন।মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ পুনরায় চার্জ গঠনের আবেদন করে।

৮ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জ গঠনের আদেশ দেন আদালত।১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে ২২ আসামি আবারো নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেন।চার্জশিটে আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান ওরফে মিজানকে হত্যার মূল হোতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।তিনিই আবরারকে শিবির বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এর পর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে কয়েকজন আসামি সভা করে এ হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।পরে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।চার্জশিটে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং তদন্তে আগত ৬ জন রয়েছেন।এ ছাড়া আদালতে স্বীকারোক্তি-মূলক জবানবন্দি দেন অভিযুক্তদের মধ্যে ৮জন।

IPCS News : Dhaka :