শুক্রবার ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে “উত্তরাঞ্চল“

আপডেটঃ ৫:১৭ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ৩০, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

পদ্মা নদী এখন মরা গাঙ্গে পরিনিত।আগের মতো আর পানি নেই ,নেই তীব্রশ্রত প্রবাহ।এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে পানি।জেগে উঠেছে পদ্মার বুক চিরে বড় বড় চর।পরিবেশবিদদের মতে,পদ্মার বিরূপ প্রভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে উত্তরাঞ্চল।উজানে ভারতের বাধ দেওয়ায় পদ্মা এখন শুকিয়ে যাচ্ছে।পানি বিশেষজ্ঞদের মতে তিব্বতীয় মালভূমি থেকে উৎপত্তি নদ-নদীগুলোর একটি পদ্মা নদী।এশিয়ার ভাটি অঞ্চলের দেশগুলোর ১০০ কোটি মানুষের মিঠা পানির অন্যতম উৎস তিব্বত মালভূমিতে উৎপত্তি হওয়া নদী গুলোর মদধ্যে অন্যতম গঙ্গা নদী।মা ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তার নাম করন হয়েছে পদ্মা।উজানে বাংলাদেশের প্রবেশমুখে ভারত বাধ দেওয়ায় পদ্মা সহ উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলো এখধ‌ মরা নদীতে পরিনিত হয়েছে।পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি শূন্যতা আর বর্ষাকালে প্রবল স্রোতে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা।

পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মার পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় রাজশাহী শহরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের কৃষিকাজে পানির সংকটসহ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।শুরু হয়েছে মরুকরণ প্রক্রিয়া।পুরস্কার বিজয়ী ক্যানাডিয়ান সাংবাদিক ও লেখক মাইকেল বাকলে তার লেখা ২০১৪ সালে “মেল্ট ডাউন ইন তিব্বত” নামে বইয়ে লিখেছেন পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ তিব্বত থেকে উৎসারিত নদ-নদীর পানির উপর প্রায় ২০০ কোটি মানুষ নির্ভরশীল।তারা খাবার-পানি, কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও শিল্পে নানাভাবে এই পানি ব্যবহার করে থাকে।শুষ্ক মৌসুমে পদ্মাসহ এ অঞ্চলের নদী গুলো শুকিয়ে যায়।যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিভার্স এর গবেষক বাকলে বলেছেন ,পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্থের কারণে মাছ ও নানা পুষ্টিকর উৎপাদন ভাটির দিকে যেতে পারেনা।

এসব কারণে নদী অববাহিকায় পাখির অস্তিত্ব সহ জীবজন্তু মৃত্যুর হুমকিতে পড়েছে। এছাড়া বনাঞ্চল, জলাভূমি ,আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।উপকূলের ব-দ্বীপ ভাঙ্গন ত্বরান্বিত হয়।সেচ নির্ভর চাষাবাদ ব্যাহত হয়।পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ায় তার বিরূপ প্রভাবে ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের।শাখা নদী গুলো এর মধ্যেই মরে গেছে জেগে ওঠা জমি দখলে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা।

দখলবাজরা গড়ে তুলেছে নানান বহুতল ভবন।নদীর তীরে গড়ে ওঠা শিল্প প্রতিষ্ঠান বর্জন পরিবেশকে দূষিত করছে।ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে মাছ, পশুপাখি, জীবজন্তু ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, পদ্মা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর মাঝে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর।বর্ষার শুরুতে খুলে দেওয়া হয় ফারাক্কার গেট ।

এর ফলে ধেয়ে আসা তীব্র স্রোত আছড়ে পড়ে পদ্মার দুই কূলে।ফলে প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনে হাজার হাজার মানুষ সর্ব শান্ত হচ্ছে।জমি আর বাস্তভিটা হারিয়ে অনেকেই ক্ষেতমজুর,ভিক্ষুক আর অভ্যন্তরীণ অভিবাসী হচ্ছে।তারা জমিজমা হারিয়ে জীবন-যাপনের জন্য হ শহরে ভিড় জমাচ্ছেন।তিনি আরো বলেন, বর্ষাকালে পদ্মার পানিতে বরেন্দ্র অঞ্চলের পুকুর -পুসকুনি, নদী- নালা ও খাল বিল পানিতে ভরে যেত।

ওই পানি দিয়ে কৃষক ফসল উৎপাদন করত।ঐ সময় পদ্মার শাখা নদীর মধ্যে দিয়ে  চলন বিলের মত বড় বড় বিল পানিতে ভরিয়ে দিতো।আবার শুষ্ক মৌসুমে বিলগুলো পদ্মা কে পানিতে ভরিয়ে দিতে।তখন কি সুন্দর বিল আর  নদীর পানির আদান-প্রদান ছিল।শাখা নদী গুলো দখল হয়ে যাওয়ায়  এখন বর্ষায় বিলে পানি যেতে পারে না।তেমনি বিল থেকেও পদ্মায় পানি আসে না।

এর ফলে খরা মৌসুমে এ অঞ্চলে পানির সংকট লেগেই থাকে।সেচের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায়, সেচদিয়ে কৃষিপন্য উৎপাদনে খরচ বেশী হচ্ছে।ফলে কৃষক ফসল উৎপাদনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে মরূকরনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন অতীতে চলাচলের প্রধান বাহন ছিল নৌপথ।নদ-নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে এখন সড়ক পথে চলাচল বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা।এই নদী বিশেষজ্ঞের মতে নদীতার নাব্যতা হারাচ্ছে।পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

কিন্তু ড্রেজিং না হওয়ায় পদ্মার নাব্যতা কোনভাবেই ফিরে আসছে না।শুকিয়ে যাচ্ছে পদ্মা।অন্যদিকে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে রাজশাহীর বেশিরভাগ পুকুর-জলাশয় বেদখল হয়ে গেছে।জেলা প্রশাসন ,আরডিএ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি পুকুর ভরাট না করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে।তা উপেক্ষা করে পুকুর-জলাশয় ভারাট চলছে অবাধে।

এক তথ্যে জানা গেছে রাজশাহীতে বিগত ৫০ বছরে ভরাট হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক পুকুর পদ্মার কারণে শাখা নদী গুলো ও নগরীর জলাশয়, খাল -বিল, পুকুর- পুসকুনি শুকিয়ে গেছে।বেদখলও হয়ে গেছে সেগুলো।বেদখল হয়েছে নগরীর ভিতর শাখা নদী গুলো সেগুলো এখন মরা খাল ও ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

আবর্জনায় ভরে উঠেছে সেগুলোর উপর গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠছে প্রাকৃতিক ভাবে মাছ চাষ ব্যাহত হচ্ছে পশুপাখির জীবনধারণ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ বাঁধের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয় এর ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন 
বর্ষাকালে অতিরিক্ত বন্যা, শীতকালে শীতের তীব্রতা ,আর গ্রীষ্মকালে উত্তরাঞ্চল জুড়ে নেমে আসে তীব্র দাবদাহ।

ফলে সব ঋতুতেই মানুষকে যন্ত্রণায় সময় পার করতে হয়।রাজশাহী মানুষের প্রাণ পদ্মা নদী।তাই পরিবেশ ও পদ্মাকে রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ।

IPCS News : Dhaka : আবুল কালাম আজাদ : রাজশাহী।